বহু বছর পরে যখন মিশ্র জিৎ পরিবারের নাতির জন্ম হলো....!তখন উনি পুরো পাড়ার লোকেদের জন্য এক দারুণ পার্টির আয়োজন করলেন। পাড়ার অন্যান্য লোকের সাথে মিলে বিমল ও পার্টির আনন্দ উঠাতে সেখানে পৌঁছে গেল, পার্টিতে বিমলকে একের পর এক পেগ গলায় ঢালতে দেখে ওর এক প্রিয় বন্ধু ওকে বলল... তুমি তো আমাকে এমনটা বলেছিলে যে....!তুমি মদ্যপান করা ছেড়ে দিয়েছো...!তাহলে আজ তোমার কি হয়ে পড়ল যে তুমি একের পর এক পেগ গলায় ঢেলে চলেছ ?বিমল ততক্ষণে নেশায় চুর হয়ে উঠেছিল..!

সত্যিকারের সম্পর্ক দূরত্বে নয়, বিশ্বাস ও সম্মানের উপর টিকে থাকে
জড়ানো গলায় বলে উঠল...আমি তো কেবল নিজের পয়সায় মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। তাছাড়া....আজ এত বড় খুশির দিন,আজ মদ না খেলে মজা আসবে কি করে?নেশা করতে থাকা লোকেরা অসংখ্যবার কখনো নিজেদের বউ-বাচ্চা, কখনো বন্ধু-বান্ধব, বা পরিবারের লোকেদের কথায়... আর কখনো নেশা না করার কঠিন শপথ নেই। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তাদের সেইসব শপথ বালির তৈরি কাঁচা দেয়ালের মতো ভেঙে পড়ে।
এমন অবস্থায় যখনই কেউ তাদের দ্বারা নেওয়া শপথ এর ব্যাপারে তাদের মনের করানোর ভুল করে ফেলে...! তখন এরা নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে।সেই সময় তাদের এতটাও মনে থাকেনা যে...ক্রোধ করলে কেবল আমাদের স্বভাব নষ্ট হয় না..! বরং আমাদের ঘর-পরিবারের, সাথে-সাথে আরো অনেক কিছু নষ্ট হয়ে পড়ে!
কাঁচা ফল হোক বা মাটির তৈরি বাসন,যতক্ষণ না সেটা পেকে তৈরি হচ্ছে.... ততক্ষণ পর্যন্ত কেউই সেটার দিকে চোখ তুলে তাকায় না। মাটির বাসন প্রস্তুতকারী কারিগর যতই সুন্দর বাসন তৈরি করুক না কেন...! কোনো বুদ্ধিমান খরিদ্দার সেই সময় পর্যন্ত সেটার জন্য কোন মূল্য দিতে রাজি হয় না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সেটা পেকে তৈরি হয়ে পড়ছে।
ঠিক সেই প্রকার যে ব্যক্তি মুখ দিয়ে বড়-বড় কথা বলে...! কিন্তু বাস্তবিক জীবনে তার ব্যবহার ঠিক সেটার বিপরীত হয়।এমন লোকেদের পীর-ফকিরেরা "কাঁচা লোক" বলেন।.....
কাঁচা লোকেরা ও সমাজে ঠিক কোন কাঁচা ফলের মতোই হয়! যেটা কে..... কেউ পছন্দ করেনা।
কাঁচা লোকেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকার কারণে.... তারা নিজেদের সহযোগীদের বিচার ধারার সাথেই নিজেদের মনো-দশা বদলে নেয়। কাঁচা মনের প্রবৃত্তির লোকেরা... ভন্ড সাধু-সন্তদের, মিষ্টি-মিষ্টি কথা খুব সহজেই ভ্রমিত হয়ে পড়ে ।সমাজে বসবাস করা কোন ব্যক্তি এই প্রকারের কাঁচা চিন্তা ধারা লোকেদের সাথে সম্পর্ক রাখা তো অনেক দূরের কথা.....!তাদের উপর কোন ব্যাপারে বিশ্বাস করে উঠতে পারেন না । যে ব্যক্তি ইতিবাচক চিন্তা ধারার রচনাত্মক রস দ্বারা পূর্ণরূপে পেকে ওঠেন....! তিনি কখনো ছোট-খাট দুঃখে ঘাবড়ে ওঠে দুঃখী হয়ে ওঠেন না।
এমন লোকদের....এমনটা দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে গন্তব্য যতই কঠিন হোক না কেন...! এক না একদিন সফলতা অবশ্যই প্রাপ্ত হবে ।জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা প্রাপ্তীর মত নিজেদের কাঁচা মনকে পাকা করে তোলার সূত্রপাত ও টলোমলো...পদক্ষেপের শুরু হয়।
কিন্তু এতে ভয় পাওয়া পরিবর্তে নিজের ভেতরে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করলে...!তবেই গন্তব্যে পৌঁছানো যেতে পারে।
উপসংহার
সম্পর্কের দূরত্ব কখনোই শুধু শারীরিক দূরত্ব নয়, অনেক সময় এটি মানুষের চিন্তা, মানসিকতা ও ব্যবহারের মধ্যেও তৈরি হয়। তাই জীবনে এমন মানুষদের কাছেই থাকুন, যারা আপনার সুখে হাসে, দুঃখে পাশে দাঁড়ায় এবং আপনার স্বপ্নকে সম্মান করে।
যারা বারবার আপনাকে ছোট করে, আপনার আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয় কিংবা শুধু নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে—তাদের থেকে সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মনে রাখবেন—
"যে সম্পর্ক আপনাকে শান্তি দেয় না, সেই সম্পর্ক থেকে দূরে সরে আসাই কখনও কখনও সবচেয়ে বড় সাহস।"
নিজের মূল্য বুঝুন, নিজের আত্মসম্মানকে ভালোবাসুন এবং এমন মানুষদের সঙ্গেই চলুন, যারা আপনাকে আরও ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে।
ধন্যবাদ। ❤️

No comments:
Post a Comment