-: বন্ধুত্ব :-
আমাদের জীবনে বন্ধুত্বের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে, এখনকার সময়ে বন্ধু ছাড়া জীবন-যাপন করা এক-রকম অসম্ভব, বন্ধুত্ব এমন ই এক সম্পর্ক্ক যেটা দিয়ে আমরা সহজেই আমাদের জীবনের হিংসা/শত্রুতা ভুলে যেতে পারি।
:––––––––––––––––––––––––––––––:
প্রচন্ড গরমের সময়.. প্রাকৃতিক নিয়মে তখন জলের চাহিদা বাড়তে লাগলো, হঠাৎই তখন শান্তিনগরের জমিদার জল বন্ধ করে দিল। যে কোন ভাবে লোকেরা, ২-৩ দিন জল ছাড়াই কাটিয়ে দিল । কিছুদিন পর তারা জলের জন্য অস্থির হয়ে উঠল। তবে শান্তিনগরে বসবাসকারীীদের মধ্যে কোন লোকেরই এতটা সাহস ছিল না যে , জমিদারের উপর কথা বলে । তো স্বাভাবিক ভাবেই তারা তাদের গুরু-জীর কাছে গেল, এবং তাদের সব কথা খুলে বলল, গুরুজি তখন বললেন তোমাদের সাথে জমিদারের সম্পর্ক তো ভালোই ছিল,
তাহলে এখন হঠাৎ করে কি হলো?কিন্তু জমিদারের লোকেরা সব সময় গ্রামের লোকেদের সাথে লড়াই ঝগড়া করার জন্য অজুহাত খুঁজে বেড়াতো, এই কথা শুনে গুরুজি বললেন, ঠিক আছে আমি এই ব্যাপার নিয়ে জমিদারের সাথে কথা বলবো।
গ্রামের লোকেরা বলল - 'গুরুজি! আপনি ওখানে গেলে কোন লাভ হবে না.....কারণ আমাদের সাথে জমিদারের লোকের হাতে রেখা অপূর্ন। আমাদের গ্রামের বয়স্ক ব্যক্তিরা বলতেন যে যেসব ব্যক্তিদের হাতের রেখা অপূর্ণ হয় তাদের মধ্যে কোন দিন বন্ধুত্ব হয়না। গুরু-জি বললেন ভালো বন্ধু বানানোর জন্য কেবল হাতই যথেষ্ট হয় হাতের রেখার কোন প্রয়োজন পড়ে না। যখন সত্যি করে হৃদয় দিয়ে কারো সাথে বন্ধুত্ব করা হয়...... তখন সেই বন্ধুত্বের মধ্যে এতটা আলো থাকে যে সেই আলোয় চারপাশের ঘন অন্ধকার দূর হয়ে যায়। সমস্যা আর চিন্তা তো আমাদের জীবনের এক অংশ হয় আর এই জীবনে আসতে-যেতে থাকে।
শান্তিনগরের নিবাসী রা গুরুজি কে বলল - "গুরু জি! আপনার ওখানে একা যাওয়াটা ঠিক হবেনা। ওরা প্রচন্ড ঝগড়ুটে আর রাগি প্রকৃতির, গুরু-জি উত্তরে বললেন ওরা যদি রাগ করে...... তাহলে আমি এটা ধরে নেবো যে ওরা অত্যন্ত ভালো লোক, ওরা কেবল রাগ দেখিয়েছে আমার গায়ে হাত তুলে নি। কিন্তু ওরা যদি সত্যি সত্যি আপনার গায়ে হাত তোলে তখন আপনি কি করবেন। তাহলে আমি এটা ধরে নেবো যে ওরা কত দয়ালু, ওরা কেবল হাত দিয়ে আমাকে মেরেছে লাঠি দিয়ে মারেনি। কিন্তু "গুরু-জি! যদি সত্যি সত্যি লাঠি দিয়ে আপনাকে মারে। তখন আপনি কি করবেন? তখন "গুরু-জি... বলল আমি এটা ভাবো যে ওরা কেবল লাঠি দিয়ে আমাকে মেরেছে আমার প্রান তো নেয় নি......।এরপর কিছু লোক ঘাবড়ে গিয়ে বলল--"গুরু-জি, ওরা এতটাই সাংঘাতিক যে ওরা আপনার প্রান ও নিয়ে নিতে পারে।এবার "গুরু-জি মুচকি হেসে উঠে! বললেন- তাহলে তো আমি এই দুঃখে ভরা জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে যাব।
এতটা শুনেই শান্তিনগরের নিবাসীরা নিজেদের "গুরু-জীর মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল....
আপনার মত মহান লোকদের সহ্যশীলতার জোরেই শত্রুদের রাগকে শান্ত করা যেতে পারে ।
গুরুজি সকল নিবাসীদের এটাই বোঝালেন ---লোহা যতই গরম হোক না কেন হাতুড়ি তো ঠান্ডা থেকেই নিজের কাজ করতে পারে। প্রতিবেশীর সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য যে মূল্য দিতে হোক না কেন সেটা কম ই হয়। কারণ মহাপুরুষেরা এমনটাই মনে করতেন যে কেবলমাত্র সমঝোতার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা লুকিয়ে থাকে। আর ভালো সমাজের নির্মাণ করার জন্য সবার প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হোক।



Good
ReplyDelete