:- সমস্যা :-
আমাদের,
জীবনে কমবেশি সবারই সমস্যা এসেই থাকে,কিন্তু কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা তাদের জীবনের সমস্যার সমাধান না করেই সমস্যাটা থেকে এড়িয়ে যেতে থাকেন....
আজ আমরা আমাদের জীবনের সমস্যার সমাধান কিভাবে করা যায়, সেগুলো একটি গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরব।
........................................
নীল রতনের বন্ধু ওকে বলল- 'লোকেরা এমনটা বলে থাকে যে পতি আর ঘুড়ির মধ্যে বিশেষ পার্থক্য হয় না।কিন্তু আমার মাথায় ঢুকছেনা যে পতি আর ঘুড়ির মধ্যে কিসের মিল থাকতে পারে! তোমাদের কি মনে হয়? এমন টা কি সম্ভব হতে পারে? নীল রতন নিজের বন্ধুকে বলল এমন কথা যে বলে থাকুক না কেন,সে একেবারে সত্যি কথাই বলেছে, নীল রতন বন্ধুকে বুঝিয়ে বলল -আরে ভাই পতি আর ঘড়ির মধ্যে মিল এর জন্য রয়েছে একজন পত্মীর গোলাম হয় আর অন্যজন সুতোর দুজনই নিজেদের ইচ্ছামত কোন কাজে করতে পারেনা,এত মজাদার উত্তর শুনে নীল রতনের বন্ধু হেঁসে গড়িয়ে পড়ল,
কিন্তু পরের মুহূর্তেই নীল রতনের পত্মী নিজের গুরু-গম্ভীর কন্ঠস্বরে বলে উঠল,সকাল থেকে কতবার বলছি যে আজ সকালে আমাদের দুই মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে পূজোর সামগ্রী পৌঁছে দিতে যেতে হবে, আর তুমি এখানে বসে বসে ফালতু আড্ডা মারছো? পত্মীর কণ্ঠস্বর এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে,পরের মুহূর্তেই নিজের দুই মেয়ের জন্য পূজোর সামগ্রী আর মিষ্টির প্যাকেট তুলে নিয়ে বাড়ি থেকে রওনা হয়ে পরলো।
নীলরতন এর বড় মেয়ের বিবাহ এক কৃষক পরিবারে হয়েছিল। আর ছোট মেয়ের বিবাহ এক কুমোর পরিবারে হয়েছিল।নীলরতন প্রথমে নিজের বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়ি গেল কুশল-সংবাদ বিনিময় করার পরে নীলরতন বড় মেয়ে নিজের বাবাকে বলল এ বছর আমাদের পুরো পরিবার ভালো ফসল উৎপাদন করার জন্য প্রচন্ড মেহনত করছে এবার আমাদের সবার একটাই প্রার্থনা হে ভগবান এ বছর যেন ভাল বৃষ্টি হয় একবার ভালো বৃষ্টি হলে আমরা প্রচুর টাকা-পয়সা জমাতে পারব।নীলরতনের বড় মেয়ে নিজের বাবাকে ভালো বৃষ্টি হওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাতে বলল। এর কিছুক্ষণ পরে নীলরতন ছোট মেয়ের শ্বশুর বাড়ি পৌঁছালো, নিজের বাবাকে দেখেই নীলরতন এর ছোট মেয়ে তাকে সেই জায়গায় নিয়ে গেল যেখানে ওর পুরো পরিবার প্রচুর মাটির বাসন বানিয়ে রেখেছিল নিজের বাবাকে দেখে ছোট মেয়ে নিজের বাবাকে বললো..........
বাবা! তুমিও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানান যে এবছর যেন বৃষ্টি না হয় বৃষ্টি হলে আমরা একেবারে বরবাদ হয়ে পড়বো।আমাদের তৈরি এই সব বাসন নষ্ট হয়ে পড়বে।
ছোট মেয়ের কথা শুনে নীলরতন অত্যন্ত দ্বিধায় পড়ে গেল।
ওর মাথায় এটা ঢুকছে না যে ও নিজের কোন মেয়ের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাবে। এই সব চিন্তা করতে করতে ও নিজের বাড়ি ফিরে এলো।
নিজের পতি কে এমন দুঃখী দেখে নীলরতন এর পত্মী জানতে চাইল। সব কথা শোনার পরে নীলরতন এর পত্নী বলল এতে এত ঘাবড়ে যাওয়ার কি আছে? এটাতো তুমিও জানো যে সব ব্যক্তি জীবনের সমস্যা থাকে কিন্তু আমাদের নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখা উচিত যে প্রতিটি সমস্যার ই কোনো না কোনো সমাধান থাকে। নীলরতন বলল আমি যদি বড় মেয়ের জন্য প্রার্থনা জানাই তাহলে ছোট মেয়ে ক্ষতি হবে আর ছোট মেয়ের জন্য প্রার্থনা জানালে বড় মেয়ের পরিবার বরবাদ হয়ে পড়বে।
নীলরতন এর পত্নী বলল তুমি এত ছোট ব্যাপারে ঘাবড়ে উঠছো কেন? একটা কথা সর্বদা মাথায় রাখবে যে সমস্যা আর চিন্তা কখনো এক সমান হয় না সেসব কখনো সারা জীবনের জন্য ,হয় তো কখনও এক মুহূর্তের জন্য। েেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেেে
নিজের পত্নীকে এতটা আত্মবিশ্বাসী দেখে নিল রতন বললো ঠিক আছে!
তাহলে তুমি বলো! এখন আমার কি করা উচিত, তার পত্মী বলল, তোমাকে কিছু করতে হবে না, তুমি শুধু আমাদের দুই মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দাও,
নীল রতনের পত্মী প্রথমে তার বড় মেয়েকে ফোন করল, এবং নীল রতনের চিন্তার কথা জানালো, এবং বলল যে বেশি চিন্তা করে সমস্যার সমাধান হয় না। এরপর সে তার মেয়ের বিশ্বাস অর্জন করে বলল যে তুমি আমাকে কথা দাও যে ভালো বৃষ্টি হলে, তোমার চাষের মুনাফার অর্ধেক টাকা তোমার ছোট বোন কে দেবে, এবং তার ছোট মেয়ে কে বলল বৃষ্টি না হলে, তোমাদের বাসন-পএ ভালো বিক্রি হলে, তার মুনাফার অর্ধেক টাকা তোমার দিদি কে দেবে, এবং দুই বোনে মায়ের এই পরামর্শ কোন দ্বিধা না করে স্বীকার করে নিল।নীল রতন তার পত্মীর এই প্রতিভা দেখে আশ্চর্য হয়ে পড়লো।
তাই সমস্যা মতো বড়ই হোক না কেন! এক সাথে পরামর্শ করলে সব সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।





No comments:
Post a Comment