-: উপসংহার :-
আমাদের জীবনে চলার পথে, নিজেদের অজান্তে অনেক সম্পর্কের মধ্যে আমরা জড়িয়ে পড়ি, কিন্তু তাদের মধ্যে অন্যতম সম্পর্ক হল "মা" ।
আমি যখন এই লেখা শুরু করি...... তখন আমার এক বন্ধু আমাকে প্রশ্ন করে যে..... ইদানিং আমি প্রতিটা সম্পর্কের খারাপ দিকটার ব্যাপারেই কেন লিখি?
![]() |
| মা-সন্তানের সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ও গভীর সম্পর্ক |
আমাকে উত্তরে এটা বলতেই হয়-.........."আজকাল কেউ কি ভালো ভাবে সম্পর্ক বজায় রাখতে জানে"?
আমার সেই বন্ধু উত্তর দেয়-....."অন্য সব সম্পর্কের ব্যাপারে তো আমি কি বেশি কিছু বলতে পারব না"........কিন্তু "মা"আর সন্তানের সম্পর্ক তো কোন ভেজাল থাকতেই পারে না"। আমি বললাম-......"এটা তুমি লাখ কথার এক কথা বলছো"। "মা" শুনতে এক ছোট্ট অক্ষর হতে পারে...... কিন্তু এর মধ্যে বোধহয় সমুদ্রের থেকেও বেশি গভীরতা থাকে। এই দুনিয়ায় যখন কোন বাচ্চা জন্ম নেয়,"মা"ও সকল কঠিনতা, কষ্ট, হাসিমুখে সহ্য করেন এবং নিজের সন্তানের লালন পালন করেন । "মা"আর সন্তানের সম্পর্কের মত আর কোন সম্পর্ক হতে পারে না।
এই দুনিয়ায়় একমাত্র "মায়েরাই" এমন হন..... যারা নিজেদের গর্ভে সন্তান আসা মাত্রই তাকে ভাালবাসতে শুরু করে দেন। বাচ্চার জন্ম হওয়ার আগেই...... জন্ম নিতে চলার সন্তানের সুবিধা-অসুবিধা অনুসারে নিজের ওঠা-বসা,খাওয়া-দাওয়া এমনকি নিজের চলাফেরার গতি-বিধিও বদলে নেয়। আর যখন বাচ্চার জন্ম হয়........ তখন "মা"তাকে নিজের চোখের সামনে দেখে, নিজের মরণা-পন্ন যন্ত্রণা ভুলে গিয়ে, আনন্দে ভরে ওঠেন। এবং নিজের চোখের সামনে একটুু একটু করে বড়় করে তোলেন।
প্রতিটি "মায়েরই" নিজের সন্তানের সাথেে যুক্ত এক স্বপ্ন থাকে। তার বড় হয়ে ওঠার স্বপ্ন, তার লেখাপড়ার স্বপ্ন, বড়ো মানুষ হয়ে ওঠার স্বপ্ন, এমনকি তার বিয়ের পর সুখী সংসার দেখার স্বপ্ন। সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে......"মা" নিজের সমস্ত খুশির গলা টিপে মেরে, সন্তানের জন্য সুখ সাধন এর ব্যবস্থা করেন।নিজের সন্তানকে সমাজে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার যোগ্য করে তোলেন। কিন্তুু যখন "মাতা-পিতার" নিজেদের সন্তানের আবশ্যকতা অনুভূত হয়.... তখন সন্তান এতটা স্বার্থপর হয়ে উঠে যে, টাকা-পয়সা রোজগারে র অন্ধ দৌড়ে মেতে সে নিজের মাতা-পিতাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেয়। কিন্তুু "মা" তো "মা"ই হন.... তিনি হাসিমুখে সবকিছুু সহ্য করে নেন। কিন্তুুু আজ সামাজিক মানসিকতার কারণে ছেলের লালন-পালন, আর তার সাথে যুক্ত মায়ের স্বপ্ন বেশি গুরুত্ব রাখে।
ছেলের বিয়ের পরে মায়ের নতুন রূপ সামনে প্রকাশ পায়..... সেটা হচ্ছেছে তার শাশুড়ির রূপ, - যাতে ছেলেকে নিজের মা আর পত্নীর মধ্যেযে সামঞ্জস্য বজায় রেখে চলতে হয়। তার উপরে অধিকার প্রয়োগ করতে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা ও বেড়ে যায়। প্রতিটি "মা-ই" নিজের ছেলের বিয়ে দেওয়ার আগে এমনটা ভাববেন যে.... ঘরে বউ এলে তার জীবন আরামদায়ক হবে। ছেলের বউ উনার খুবই সেবা যত্নন করবে...... উনি সংসারের কাজকর্ম থেকে ছুটি নিয়েে সারাটা সময় নিজের ইচ্ছা মতন কাটাতে পারবেন। কিন্তুতু বদলাতে থাকা পরিস্থিতি ছেলের বউকে ও ছেলের মতোই বাড়ির বাইরে গিয়ে পয়সা রোজগার করে আনতে বাধ্য করে তুলছে। এইসব দেখে "মায়ের" স্বপ্ন ভেঙ্গে চুর-চুর হয়ে পড়তে থাকে।
ছেলের বউ এর রোজ সকালে সেজেগুজে অফিস যাওয়া আর সন্ধ্যায় তার ক্লান্তত মুখটা দেখে শাশুড়িি "মায়ের" অস্থির হয়ে ওঠা টা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কোথায় শাশুড়ি "মা" ছেলের বউকে দিয়ে নিজের সেবা-যত্নন করানোর স্বপ্নন দেখেছিলেন,আর এখন সব উল্টোটো হচ্ছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি কি সত্যি-সত্যি "মায়ের" রূপ কে বদলে দিয়েছে? আজকের যুগের জীবন কি মা আর সন্তানের হৃদয়ের পার্থক্যের সৃষ্টি করে দিয়েছে? কাল পর্যন্ত যে "মা" নিজের সন্তানের জন্য হাসি মুখে সব কিছু করতে প্রস্তুতু হয়ে থাকতেন.... আজ "মায়ের" সেই হৃদয়ের সব স্বপ্ন ভেঙে যেতে বসেছে। "মা" তো নিজের ছেলেকে মানুষ করে বড় করে তোলেন..... তার জীবনকে সফল করে তোলেন আর সেই ছেলেই বড় হয়ে মায়ের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে দেয়। "মায়ের" বাধ্যক্য তার কাছে এক বোঝার মতো লাগতে থাকে।এখন প্রশ্ন উঠে যে, এইসব গম্ভীর বিষয়গুলোর মূল হিসেবে কাকে মানা উচিত?- আত্মসম্মানকে নাকি বদলাতে থাকা সময়-এর 'রং'কে?
"পরিবারের ছোট-ছোট ব্যাপার কে কেন্দ্র করে একে অপরকে হেয় করা, নিজেকে অন্যদের থেকে বেশি যোগ্য মনে করাই বোধহয় সকল ঝগড়ার মূল কারণ। আমাদের সমাজে "মাকে" কোন দেবীর থেকে কম সম্মান দেওয়া হয় না। যদি মায়ের এই ছবিকে বজায় রাখতে হয়....... তাহলে মায়েদের ও জীবনে নিজেদের কিছুটা উপরের দিকে তুলে ধরার আবশ্যকতা রয়েছে। মায়েদের কেবলমাত্রর নিজেদের স্বার্থ না দেখে আরো কিছুটা ত্যাগের ভাবনা প্রকাশ করতে হবে। পরিবারের বাচ্চাদের ছোট খাটো ঝগড়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে চলার পরিবর্তে প্রেম পূর্ণ ভাবে সেটার সমাধান করার মধ্যেই "মায়েদের" মহানতা লুকিয়েে রয়েছে। মা যদি খুশি-খুশি ছেলের বিয়ে দিয়ে, ছেলের বউকে নিজের মেয়ে হিসেবে মেনে বাড়িতে নিয়ে আসেন..... তাহলে ছেলের বউকে তার কর্তব্য বোঝানোর সাথে-সাথে তাকে তার অধিকারও প্রদান করা উচিত। প্রতিটা ব্যক্তির ই এতটা অবশ্যই মনে রাখা উচিত যে...... ভালো মানুষেরা কেবলমাত্র তাদের নিজেদের কর্মেমের দ্বারাই পরিচিতি হন..... কারণ ভালো ভালো কথা তো খারাপ লোকেরাও বলে থাকেন। এজন্য বদলাতে থাকা সম্পর্কের সাথে যদি আপনারা নিজেদের কর্মের কিছুটা সামঞ্জস্যয স্থাপন করে নিতে পারেন তাহলে যে কোন পরিবারই স্বর্গ হয়ে উঠতে পারে।
সম্পর্ক সুন্দর রাখতে কিছু ছোট অভ্যাস:
- প্রতিদিন অন্তত একবার মন খুলে কথা বলুন।
- ভুল হলে ক্ষমা চাইতে দ্বিধা করবেন না।
- অন্যের অনুভূতিকে সম্মান করুন।
- কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- পরিবারের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটান।
শেষ কথা
জীবনের প্রতিটি সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলায়। কিন্তু ভালোবাসা, সম্মান, বিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধ থাকলে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। নিজের মানুষদের সময় দিন, তাদের মূল্য বুঝুন। কারণ অনেক সময় আমরা মানুষকে হারানোর পরেই তার প্রকৃত গুরুত্ব উপলব্ধি করি।
জীবনে ব্যক্তি কোন জিনিসের সত্তিকারের মূল্য কেবল মাত্র দুটি পরিস্থিতিতে বুঝতে পারে!
(সেটা প্রাপ্ত করার আগে আর সেটা হারানোর পরে)


Nice
ReplyDeleteGood
ReplyDelete