-: প্রতিভা :-
প্রতিটি মানুষের মধ্যে কিছু না কিছু প্রতিভা থেকেই যায়, সেটা অবশ্য নিজেদেরকে খুঁজে বের করতে হয়। তাই হয়তো কোন মানুষকে ছোট করা উচিত নয়।
-----------------------------
এক কোম্পানি শহরের অত্যন্ত সুন্দর শপিং মল গুলো নিজেদের নতুন ডিজাইনের তৈরি মডার্ন শোরুম, তারা যথারীতি দেশ-বিদেশে প্রস্তুত মূল্যবান উপাদান বিক্রি করার জন্য সেলসম্যানের চাকরির জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিল,
অনেক লোকেদের সাথে সাথে পাশের এক গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষিত কিন্তু সরল-সাদাসিদে এক যুবক সেই চাকরির জন্য আবেদন জানাল।ইন্টারভিউ নেওয়ার সময়ই কোম্পানির এক বড় অফিসার যুবকের চাল-চলন দেখে ম্যানেজারকে বকুনি লাগিয়ে বললেন ''আপনি এ কেমন লোকেদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন''?ইন্টারভিউ শুরু হতেই সেই যুবকের কথা বলার ভঙ্গি আর পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে অফিসার এটা স্থীর করে নিলেন যে,সেই যুবককে কোনভাবেই এই চাকরিতে রাখা যেতে পারে না, এর ফলস্বরূপ সেই যুবককে চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষিত করে দেয়া হলো ।
যুবক কিছুটা সাহস করে তাকে অযোগ্য ঘোষিত করার,,কারণ জানতে চাইলে সেই অফিসার বললেন ''এই চাকরির জন্য অবশ্য লেখাপড়া তোমার ঠিকই আছে কিন্তু তোমার কথা বলার ভঙ্গি আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ একেবারে গাইয়া দের মত, এজন্য আমরা তোমাকে নিজেদের এত বড় শোরুমে কাজ করার জন্য রাখতে পারছিনা'',জবাবে সেই যুবক বলল ''আপনি আমাকে একটা সুযোগ দিয়ে দেখুন আমি এক মাসের ভিতরেই আপনাদের শো রুমে রাখা উৎপাদনের বিক্রি কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলব'',আর আমি যদি আমারটা করতে না পারি তাহলে আপনারা আমাকে একটা পয়সাও পারিশ্রমিক দেবেন না, সেখানে উপস্থিত সকলের,, যুবকের এমন আত্মবিশ্বাস দেখে এমনটা মনে হল যে ওকে একটা সুযোগ দেয়া যেতে পারে এবং সেই যুবককে কয়েকদিনের জন্য চাকরিতে রেখে নেওয়া হলো।
পরের দিন থেকেই সেই যুবক প্রানপন মেহনত করে নিজের কাজ বুঝে নেয়া শুরু করে দিল, শোরুমে আসা কোনো খরিদ্দারকেই ও খালি হাতে ফিরে যেতে দিত না, নিজের সহজ-সরল ও সাদা-সিধে আর মধুর ভাষার ধারা ও সবার মন জয় করে নিত।ওর কথাবার্তায় প্রভাবিত হয়ে লোকেরা মন থেকে না চাওয়া সত্ত্বেও ওকে কিন্তু 'না' বলতে পারত না, দেখতে-দেখতে ও নিজের প্রতিশ্রুতি অনুসারে শোরুমের বিক্রি কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুললো, এবং ধীরে ধীরে এই খবর শোরুম এর মালিকের কাছে পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছালো।
তিনি সেই যুবকের সাথে দেখা করা আর তার কাজ করার পদ্ধতি জানার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন, এবং তিনি পরের দিন শোরুমের এক কোণায় লুকিয়ে দাঁড়িয়ে সেই যুবকের কাজ দেখতে লাগলেন, সেই সময় যুবক এক খরিদ্দারকে পিকনিকের জিনিস নিয়ে যাওয়ার জন্য এক বড় বাস্কেট 400 টাকায় বিক্রি করছিল, এর পরে সেই যুবক সেই খরিদ্দারকে প্রচুর খাওয়া-দাওয়া সামগ্রী ও 500-600 টাকায় বিক্রি করল, তারপর নিজের সেই খরিদ্দারকে জুতো সেকশনে নিয়ে গেল,সেখানেও একজোড়া দারুন জুতো 800 টাকায় বিক্রি করল, এর পরে এক দারুণ টুপি আর চশমা 700 টাকায় বিক্রি করলো। এইসব দেখে শোরুম এর মালিক অত্যান্ত খুশি হয়ে উঠলেন আর উনি বললেন ''ওই ব্যক্তি তো কেবল একটা বাস্কেট কেনার জন্য আমাদের শোরুমে এসেছিলেন'',কিন্তু তুমি ওনাকে এত কিছু জিনিস বিক্রি করলে কিভাবে ? সে যুবক বলল ''আসলে উনি কেবল একটা ব্রেড আর কিছু ডিম কিনতে এসেছিলেন'' কিন্তু উনি যখন আমার থেকে অমলেট বানানোর পদ্ধতি জানতে চাইলেন তখন আমি এটা বুঝতে পেরে যায় যে.......ওনার স্ত্রী নিশ্চয়ই বাপের বাড়ি গেছেন আর উনি বাড়িতে একেবারে একা!আমি তখন উনাকে "বাড়িতে একা-একা বসে না থেকে দু-তিন দিনের জন্য কোথাও পিকনিকে যেতে আর আনন্দ উপভোগ করার কৌশল বলি"আর আমি উনাকে এটাও জানাই যে, এমন সুযোগ কখনো বারবার পাওয়া যায় না, ব্যস.....এরপর আমি ওনাকে পিকনিকের জন্য আবশ্যক সব জরুরী জিনিস-পত্র বিক্রি করি।
""তাই কারোর পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে তাকে অস্বীকার করার আগে,তার গুণেরও পরীক্ষা করে নেয়া উচিত!কে জানে কার মধ্যে কি প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে""




Excellent
ReplyDelete