দীর্ঘ সময় পরে জগৎবাবুর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু যখন উনার বাড়িতে এলেন..... তখন উনি টেবিলে মদের বোতল আর গ্লাস দেখে! অবাক হয়ে উঠলেন। এই দৃশ্য দেখে উনি বললেন... তুমি তো সব রকমের নেশার বিরোধী ছিলে। তাহলে তোমার বাড়িতে মদের বোতল! ব্যাপারটা কি? জগৎবাবুর নিজের বন্ধুকে বললেন..... আমি এই জীবন নিয়ে অত্যন্ত অস্থির হয়ে উঠেছি। যে দিন থেকে আমার বিয়ে হয়েছে.....আমি নিজের পুরো উপার্জন পরিবারের লোকেদের সুখী করে তোলার জন্য খরচ করে দিয়েছি।কিন্তু এতসব ...কিছু করার পরেও আমি একটা মুহূর্তের জন্য শান্তি পায়নি। উনার বন্ধু সাহস যুগিয়ে বললেন.....কিন্তু মদ গলায় ঢাললেই ..তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে আসবে না। জগত বাবু বললেন আমি এর আগে দুধ পান করে দেখে নিয়েছি। তাতে... কোনো লাভ হয়নি।এমন সময় জগৎবাবুর স্ত্রী প্রথমবার বাড়িতে আসা অতিথির জন্য... চা-জলখাবার নিয়ে ঘরে এসে ঢুকলেন।কিছুক্ষণ পরে জগৎবাবুর বন্ধু বললেন তোমার বউ তো !তোমার সাথেই থাকে,উনার হাব-ভাব দেখে তো আমার এমন কিছু মনে হলো না যে উনি তোমার মত দুঃখী।
জগত বাবু নিজের বন্ধুকে বললেন..."মেয়েদের চিন্তিত হওয়ার কি দরকার"? মনে হচ্ছে! তুমি এই প্রবাদ বাক্যটি শোননি যে-"যে মহিলা নিজের স্বামীকে ভয় পায় সে মৃত্যুর পরে স্বর্গে যায়, আর যে মহিলা নিজের স্বামীকে ভয় পায় না তার কাছে এই পৃথিবীটাই স্বর্গ হয়ে ওঠে" আমার স্ত্রী আমাকে ভয় পাওয়ার বদলে..উল্টে সর্বদা আমাকে ভয় দেখাতে থাকে। বন্ধুর সাথে কথা বলার সাথে-সাথে জগৎবাবুর "মদ্যপান" করার গতি আর "রাগের পারা" .....দুটোই তীব্র হয়ে উঠেছিল। জগৎবাবুর বন্ধুর মাথায় ঢুকছিলো না যে....কাল পর্যন্ত যে সকল বন্ধুদের মধ্যে সর্বদা হাসি-খুশি থাকা জগৎবাবুর সাথে এমনকি হয়ে পড়ল যে!...উনি নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছেন। এই প্রথম বার আসা নিজের স্বামীর বন্ধুর সামনে...নিজের "স্বামীর"এমন অবস্থা দেখে জগৎবাবুর স্ত্রীর খুবই খারাপ লাগছিল।জগৎবাবুর বন্ধু মনে-মনে এটা ঠিক করে নিলেন যে...এই সময় জগত বাবুকে বোঝানো কোন যুদ্ধ জয় করার থেকে কোন অংশে কম কঠিন নয়। উনি ইশারায়!.....জগৎবাবুর স্ত্রীকে বললেন যে.... জগৎবাবুর সাথে পরের দিন সকালে কথা বলাটা উচিত হবে।
পরের দিন সকালে চা-জলখাবার খাওয়ার পালা মিটে গেলে ...তখন জগৎবাবুর বন্ধু ওনাকে বললেন ...."কাল পর্যন্ত তুমি সবাইকে সর্বদা হাসি খুশি জীবন কাটানোর জন্য প্রেরিত করতে ,আজ তোমার এতটা নেতিবাচক চিন্তা-ধারা দেখে আমার প্রচন্ড অবাক লাগছে!"। জগত বাবু সঙ্গে-সঙ্গে বলে উঠলেন....."ভাই এখনো তোমার গলায় ঢোল বাঁধা হয়নি", সেজন্য তুমি আমার কথা ঠিক বুঝে উঠতে পারছ না।যেদিন তোমার বিয়ে হয়ে পড়বে.... আর সকাল সন্ধ্যা বউয়ের খিট-খিট শুনতে হবে। সেই সময় তোমার এই অধমের কথা মনে পড়ে যাবে ।বিয়ের আগে তো সবাই "সুপারমেন" হয়,আর বিয়ের পরে সেই "স্পাইডারম্যান"হয়ে নিজের জালে ফেঁসে যায় ।আরে ভাই বিয়ের আগে সব কিছু চলে ।কিন্তু বিয়ের পরে স্বামীদের সকালে... মুরগির মতো উঠতে হয়। তারপর ঘোড়ার মতো ছুটতে-ছুটতে অফিসে পৌঁছাতে হয়।সেখানে সারাটা দিন....গাধার মত কাজ করতে হয়,আর বাঁন্দরদের মত "বসের"ইশারায় নাচতে হয়।এই ফাঁকে জগৎবাবুর স্ত্রী বলে উঠলেন...তারপর বাড়ি ফিরে এসে কুকুর দের মতে চেঁচাতে শুরু করতে হয়, আর তারপর মোষের মত মদ গিলে ঘুমিয়ে পড়তে হয়।
জগত বাবু ওনাদের উদ্দেশ্যে.... "হাতজোড় করে চুপ করে থাকার অনুরোধ জানিয়ে" বললেন... এটা সত্য! যে... আমার এখনো বিয়ে হয়নি। কিন্তু আমি অনেক লোকদের বিয়ে করতে দেখেছি। দুনিয়ার .....অনেক সফল লোকেদের জীবনকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখার পরে। আমি এটা জানতে পেরেছি যে.... "স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কাঁচের পাত্রের মতো হয়"। সেটাকে সামলে রাখতে না পারলে, সেটা খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে যায়। আর তারপর সারাটা জীবন ....কষ্ট পেতে হয়। কোন ব্যক্তি "মানসিক শান্তি"একমাত্র সেই সময় পেতে পারেন ....যখন তিনি নিজে সেটা চাইবেন। আমরা নিজেদের অস্থির মনের জন্য অন্যদের যতই দোষ দি না কেন!বাস্তবিকতা হচ্ছে !এটা যে ....এসব সমস্যার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী থাকি ।এত কিছু শোনার পরে জগৎবাবুর রাগের মাথায় আরো কিছু বলতে উদ্যত হলেন !.....তখন ওনার বন্ধু উনাকে বললেন....তোমার মধ্যে এই জিনিসটার অভাব রয়েছে যে....তুমি নিজের মনের যন্ত্রণা ঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারো না। সেই জন্যই তোমার মনের উপর সর্বদা এক বোঝার মত... চেপে থাকে যেটা তোমাকে অস্থির করে মারে।
জগত !তুমি এখনো যদি নিজেকে না বদলাও.... তাহলে তোমার জীবনের সেই সব.... লোকদের মতো হয়ে পড়বে যারা ...কাঁদতে-কাঁদতে এই দুনিয়ায় আসে আর সারাটা জীবন নিরাশার পরিবেশে কাটিয়ে দিয়ে.... এই দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে চলে যায়। জীবনকে যদি ভালো ভাবে কাটাতে হয়... তাহলে একটা কথা মনে রেখো যে ...."আমাদের জীবনে সবকিছু আমাদের ইচ্ছা মত হতে পারেনা"এজন্য ভগবান তোমার ঝুলিতে যা কিছু ঢেলে দিয়েছেন!সে সব হাসি মুখে স্বীকার করতে শেখো।ভালো করে দেখলে...এই জীবন স্বপ্নের মতো মনে হয় ..."মনোযোগ সহকারে পড়লে এই জীবন ঠিক কোন পুস্তক এর মত মনে হয়" "কান পেতে শুনলে এই জীবন জ্ঞান এর মত লাগে" "ভালো করে বুঝতে পারলে এই জীবন ঠিক কোন আশীর্বাদের সমান হয়"। যে ব্যক্তি... এই ছোট্ট প্রবাদ বাক্য কে নিজের জীবনে গ্রহণ করে নিতে পারবেন,তার মন কখনো অস্থির হতে পারে না।
"ঠান্ডা আর অসম্মান যত বেশি করে অনুভূত হয়...মন ততই অস্থির হয়ে ওঠে"





No comments:
Post a Comment