*এক রাজা নিজের মন্ত্রীর সাথে রাজ্যের জনতার দুঃখ-কষ্ট জানার জন্য বেরিয়ে পড়লেন। কিছুদূর যাওয়ার পরে..... উনি দেখতে পেলেন!.... যে এক রাখাল বালক নিজের ভেড়াদের জল পান করাতে,নদীর ধারে নিয়ে এসেছে । রাজা মশাই,তাকে প্রশ্ন করলেন....তোমার এইসব ভেড়ারা প্রতিদিন কতটা পরিমাণে দুধ দেয়?রাখাল বালক উল্টে রাজা কে প্রশ্ন করল...আপনি ঠিক কোন রঙের ভেড়ার ব্যাপারে জানতে চাইছেন?সাদা না কালো? রাজা বললেন....ঠিক আছে তুমি সাদা রঙের ভেড়াটা আগে বলো! রাখাল বালক উত্তরে বলল.... রাজা মশাই এরা মোটামুটি দু কিলোর মত দুধ দেয়। এবার রাজা প্রশ্ন করলেন....আর বাকি কালো রঙের ভেড়া গুলো কতটা দূধ দেয়?রাখাল বালক তার উত্তর এ বললো.... রাজা মশাই এরাও মোটামুটি ততটাই দুধ দেয় এরপর রাজা মশাই পরের প্রশ্ন করলেন....এইসব ভেড়ার থেকে কতটা পরিমাণে ? উল পাওয়া যায়? রাখাল বালক আবারও প্রশ্ন করল....আপনি ঠিক কোন রঙের ভেড়ার ব্যাপারে জানতে চাইছেন?রাজামশাই সাদা না কালো? রাজামশাই বললেন...তুমি সাদা রং এর আগে বলো! রাখাল বালক তার উত্তরে বলল রাজা মশাই এরা মোটামুটি দুই থেকে তিন কিলোর মত উল দেয়। রাজা আবার ও প্রশ্ন করলেন.... আর এই কালো রঙের ভেড়া গুলো কতটা পরিমাণে উল দেয়? রাখাল বালক বললো.... রাজা মশাই এরাও মোটামুটি ততটাই উল দেয়।
রাখাল বালকের এমন উত্তরে রাজা মশাই অসন্তুষ্ট !হয়ে বললেন.... যদি দুটোই একই রকমের দুধ আর ফুল দেয়..... তাহলে তুমি আমাকে বোকা কেন বানাচ্ছো? রাখাল বালক বলল-আসলে কালো রংয়ের ভেড়াগুলো আমার বাবার! এবারে....মন্ত্রীমশাই রেগে উঠে বললেন আর কালো রংয়ের ভেড়া গুলো তাহলে কার? রাখাল বালক বললো ওগুলো আমার বাবার ই। রাখাল বালক এর মুখে এমন উত্তর শুনে মন্ত্রীমশাই পাগলের মত হয়ে উঠল।রাজা মশাই নিজের মনকে শান্ত করে রাখাল এবং বালকের উদ্দেশ্যে বললেন... তাহলে তুমি সরাসরি উত্তর না দিয়ে! এত গল্প শোনাচ্ছ কেন? এবার রাখালবালক হাতজোড় করে বলল আসলে আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই জঙ্গলে, এইসব ভেড়াগুলোর সাথে থাকি! বেশ কয়েকদিন..... পর্যন্ত কথা বলার মত কারো দেখা পাই নাই। আজ অনেকদিন পর আপনাদের সাথে দেখা হলো, তাই আপনাদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে মন হালকা করে নিতে ইচ্ছে হলো .....
রাজা মুচকি হেসে বললেন তুমি বড়ই মজার মানুষ!
এই ফাঁকে রাজামশাই নদীর শুদ্ধ নির্মল জল দেখলে... উনার নদীর জলে স্নান করতে ইচ্ছে হলো। উনি নিজের পোশাক একপাশে খুলে রেখে...! হাতে করে জল নিয়ে নিজের শরীরের ওপরে ঢালতে লাগলেন..... রাজাকে এইভাবে স্নান করতে দেখে ...রাখাল-বালক নিজের ঝোলা থেকে একটা ছোট্ট ঘটি বের করে খুব শ্রদ্ধার সাথে,রাজার দিকে এগিয়ে ধরল..!আপনি এই ঘটি দিয়ে স্নান করে নিন। ঘটি দেখি মন্ত্রীমশাই প্রচন্ড রেগে উঠে বললেন....তুমি ছোট জাতের লোক! তোমার রাজামশাই কে ঘটি দেওয়ার এত বড় সাহস হলো কি করে....?
রাখাল বালক বলল... কিন্তু এই ঘটি টা তো পিতলের, আরো কোন ধাতুর কোন জাত বা ধর্ম হয় না !এমনিতেও এই ঘটি দেয়ার আগে আমি এটাকে নদির পরিষ্কার জলে ধুয়ে এনেছি....!এখনো কি আপনার এমনটা মনে হচ্ছে যে...এই ঘটি টি পবিত্র হয়নি? তাই যদি হয় তাহলে...এমন টা বলার জন্য আমাকে মাফ করবেন যে...!এই গটির থেকে আপনার চিন্তাধারা অনেক বেশি ময়লা!আমি আপনাদের মত শিক্ষিত নয় ঠিকই....কিন্তু এতটা বুদ্ধি আমার অবশ্যই আছে যে... কোন ব্যক্তি ছোট বা বড় হয় না!.... আমরা সবাই একই প্রভুর সন্তান। জন্মের আগে আর মৃত্যুর পরে প্রতিটি ব্যক্তির সমাজ,ধর্ম আর জাতির সাথে কোনো সম্পর্কই থাকেনা।তাহলে....জীবিত থাকার সময় এই ভেদ-ভাব কেন?রাখাল বালকের কথা শুনে মন্ত্রীমশাই চেঁচিয়ে উঠে বললেন... এবার কি রাজকার্য চালাতে থাকা লোকেদের!... তোমার মত অশিক্ষিতর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে?
রাজামশাই তখনই মন্ত্রী মশাই কে নিজের কাছে ডেকে বললেন...আপনি নিজের দায়িত্ব পালন করছেন..সেটা ঠিকই আছে।কিন্তু আপনি এটাও চিন্তা করে দেখুন যে...! এই রাখাল বালক যা কিছু বলেছে সে সব ভুল মোটেও নয় । আমাদের গুরুজনেরা এমনটা বলতে থাকেন যে.... "ভালো জ্ঞান" আর ভালো ভজন...যেখান থেকেই প্রাপ্ত হোক না কেন!সেটাকে তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করা উচিত। ক্ষুব্ধ মন্ত্রী মশাই এর মুখ-চোখ দেখে..... এমনটাই মনে হচ্ছিল যে...উনি সেই রাখাল বালককে কোন কড়া শাস্তি অবশ্যই দেবেন। কিন্তু রাজামশাই-মন্ত্রী মশাইয়ের কানে আস্তে করে বলেন.... কোনো ব্যক্তির বর্তমান অবস্থা দেখে তাকে অপমান করা উচিত নয়! কারণ সময়ের মধ্যে এতটা শক্তি থাকে যে... সেটা এক মামুলি কয়লা কেউ মূল্যবান হীরা-য় পরিবর্তিত করে দেয়!
"পাহাড়ে চড়ার একটা নিয়ম আছে, ঝুঁকে চলা.... দৌড় দিওনা না.....! আমাদের জীবনেও এটা চাই!"




No comments:
Post a Comment