একবার এক রাজা নিজের জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করলেন। রাজ্যের বড়-বড় গায়ক, আর হাস্য কবি দেরও আমন্ত্রণ জানানো হল। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মজুদ প্রত্যেকে.... নিজেদের প্রদর্শন দ্বারা রাজাকে প্রসন্ন করে তোলার চেষ্টা করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পরে এক গায়ক নিজের হাস্য গীত পেশ করার জন্য.. হাজির হলেন। ওনার গান শুনে সেখানে উপস্থিত লোকদের হাসি আসা তো দূরের কথা....প্রত্যেকের মুখ-চোখে যন্ত্রণা ফুটে উঠতে লাগল। তখন রানি সেই গায়ককে সেই গানটি আবার একবার গাইতে বললেন। এবার সেই গায়ক আগের বারের থেকেও বেসুরো ভাবে গান গাইলেন। গান শেষ হওয়ার পরে সেই গায়ক যখন স্টেজ থেকে নেমে আসতে লাগল... তখন রানী ওনাকে আবার একবার, সেই গানটা গাইতো বললেন। সেই গায়ক বললেন....মহারানী আমার এটা দেখে খুবই ভালো লাগছে যে...আপনার আমার গান এত পছন্দ হয়েছে! কিন্তু আমার মধ্যে আর এতটা সাহস নেই যে.... আমি আবার একবার আপনাকে গান গেয়ে শোনাতে পারি।
রানী বললেন.... আপনারা এমন ভুল ধারণা কি করে হয়ে পড়ল যে আপনার গান আমার পছন্দ হয়েছে ?আমি তো আপনাকে বারবার গানটা এজন্য গাইতে বলছি, কারন.... আপনি যতক্ষণ না গানটা ঠিক-ঠাক ভাবে গাইছেন, আপনাকে এখান থেকে যেতে দেওয়া হবে না। রাজা আস্তে-আস্তে করে..... রানীর কানে-কানে বললেন যে.....এতবার গান গাওয়ার পরেও গানটা ঠিকভাবে গাইতে পারল না। সে ভালো গান কি করে গাইতে পারে। রানী রাজার উদ্দেশ্যে বললেন- যে কোন কাজ কেবলমাত্র অভ্যাস দাঁড়ায় উন্নত করে তোলা যেতে পারে। এই গায়ক যদি আগে থেকে কিছুটা অভ্যাস করে নিতেন....তাহলে উনি এই গানটা খুবই ভালো হবে গাইতে পারতেন। রাজা বললেন তোমার এই কথাটা আমার খুব ভালো লাগলো না, তুমি কি এমন টা বলতে চাইছো যে....অভ্যাস দ্বারা প্রতিটি ব্যক্তি নিজের কাজে নিপুণতা হাসিল করতে পারে?. রানী বললেন... আমি খুব শীঘ্রই এর প্রমান আপনার সামনে পেশ করব।
পরের দিন রাজা আর রানী নিজেদের প্রসাদের ছাদে বসে গল্প করছিলেন ।উনাদের রাজপ্রসাদের বাগানে এক হরিণের বাচ্চা খেলা করে বেড়াচ্ছিল। রানী রাজা কে বললেন.. আপনি ওই হরিণের বাচ্চাটাকে উপরে নিয়ে আসুন। রাজা তখনই নিচে নেমে... বাগানে পৌঁছে গেলেন। আর সেই হরিণের বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিয়ে.... রানীর কাছে চলে এলেন। এরপর... থেকে রানী রোজ সেই হরিণের বাচ্চার সাথে খেলা করার জন্য..... সেটাকে ওপরে নিয়ে আসতেন। কিছু সময় কেটে যাওয়ার পরে.... একদিন রাজা রানী কে বললেন তুমি নিজের অভ্যাস দ্বারা নিপুণ হওয়ার প্রমাণ... কিন্তূ এখনো পেশ করোনি! রানী বললেন সেটা আর এমনকি মুশকিল কাজ.... আজই আমি নিজের বক্তব্যের সমর্থনে প্রমাণ পেশ করতে পারি! কেবল সেই কাজটা করার জন্য....আমার আপনার একটু সাহায্যের প্রয়োজন হবে !রানী...রাজা কে বললেন আপনি একটু নিচে বাগানে গিয়ে সেই হরিণের বাচ্চাটাকে বাগান থেকে...উপরে নিয়ে আসুন।রাজা বললেন... এখন আর ও বাচ্চা নেই !এত বড় হরিণ কে তুলে নিয়ে আসা অসম্ভব।
পরের মুহূর্তে রানী নিজে, নিচে নেমে গেলেন... আর সেই হরিণ টাকে কোলে তুলে উপরে নিয়ে এলেন ।এই দেখে রাজা অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে উঠলেন! যে রানী এতো বড়,আর এতো ভারী একটা হরিনকে এত সহজে কি করে? কোলে তুলে উপরে নিয়ে এলেন !রানী বললেন কারণ....আমি রোজ এর সাথে খেলা করি, আর একে প্রতিদিন নিজের সাথে কোলে করে ছাদ পর্যন্ত নিয়ে আসতাম।আপনিও যদি অভ্যাস লাগাতার করতেন... তাহলে আপনার কাছেও হরিণটা ভারী লাগতো না,আর আপনিও সহজেই একে তুলে উপরে নিয়ে আসতে পারতেন। রাজার হাব-ভাব দেখে রানী বললেন... এতে এত আশ্চর্য হয়ে ওঠার কিছুই নেই!
আমাদের রাজগুরু তাই জোর দিয়ে এটা বোঝানোর চেষ্টা করেন যে... লাগাতার অভ্যাস করে চললে শরীরকে যে কোন কাজ করার যোগ্য করে তোলা যেতে পারে। যে কোন পালোয়ান যে কোনো শিল্পী,বা অন্য কোনো ব্যক্তি....তারা অন্য যে কোন ক্ষেত্রের সাথে যুক্ত থাকুক না কেন! সেই ব্যক্তি যদি অভ্যাস করা ছেড়ে দেন তাহলে উনি নিজের ক্ষেত্রে থেকে দ্রুত অন্যদের থেকে পেছনে পড়ে যায়। আর যেসব লোক লাগাতার অভ্যাস জারি রাখেন তারা নিজেদের কাজে সফল হয়ে ওঠেন। এত সব কিছু শোনার পরেও রাজা সম্পূর্ণ রূপে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না! এইবার রানী একেবারে সহজ সরল শব্দে বললেন...কাল রাত্রে যখন খাবার সময় কারেন্ট চলে গিয়েছিল তখন অন্ধকারেও আপনার হাত ঠিক খাবারের উপর যাচ্ছিল,আর আপনি খাবারের আগ্রাসন ঠিক-ঠাক ভাবে মুখে পুরছিলেন !এটা অভ্যাস নয় তো আর কি?তাই রাণীর কথা শুনে আমাদের নিজের সমস্ত শঙ্কা দূর করে... এমনটা স্বীকার করে নেওয়া যায় যে... যে কোন কার্যক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার জন্য প্রচুর সংখ্যক উপদেশ গ্রহণ করার থেকে, প্রতিদিন একটু একটু করে অভ্যাস করে চলা টা অনেক ভাল হয়।
#জীবনের সফলতা প্রাপ্ত করার জন্য.... আপনাদের নিজেকেই অভ্যাস করতে হবে।#




Good
ReplyDelete