চরিত্র:-
@বাসন্তী....
@বিরু...
* বাসন্তী বিরু কে ওর জন্মদিনের অভিনন্দন জানানোর সাথে সাথে ওকে চমক দিয়ে বলল--"আমি তোমার জন্মদিনের জন্য এক দারুণ আর অত্যন্ত দামী গিফট নিয়ে এসেছি"। বিরু বলল....আমি এর আগে অনেকবার তোমাকে বলেছি যে... এ ধরনের নিয়মকানুন করার কোন প্রয়োজন নেই। তা তুমি কি একটু কষ্ট করে আমাকে এটা জানাবে যে....তুমি কি গিফট এনেছো? বাসন্তী বলল দুটো মিনিট অপেক্ষা করো..... আমি এক্ষুনি সেটা পড়ে তোমাকে দেখাচ্ছি।বিরু নিজের কপালে চাপড় মেরে বলল...পরিবারে কোন একটা উপলক্ষ হলেই হল, এই মহিলা নিজেকে ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না।এর একটু পরে যখন বাসন্তী গলায় এক অত্যন্ত মূল্যবান হার পড়ে বীরুর সামনে এলো.... তখন বীরুর মনে! নিজের জন্মদিনের যেটুকু খুশি ছিল, বাসন্তীর গলায় মূল্যবান হার দেখে ওর সমস্ত খুশি কর্পূর এর মত উবে গেল।
** ভীরু মনে মনে এমনটা চিন্তা করতে লাগল যে এই মহিলার উপর নিয়ন্ত্রণ কি করে প্রাপ্ত করা যেতে পারে? বাসন্তীর গলায় ঝুলতে থাকা হার, বীরুর পুরনো বেশকিছু ক্ষতস্থান কে তাজা করে তোলার সাথে-সাথে সেগুলোর উপর নুন ও ছিটিয়ে দিয়েছিল।এমন সময়... বাসন্তীর মাসী বীরুর জন্মদিনের অভিনন্দন জানানোর জন্য এলেন।মাসিকে দেখেই বিরু নিজের রাগকে ভেতরে চেপে রেখে, মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতে লাগলো।
*** ঘরে পা দিতেই মাসির বহু বছরের অভিজ্ঞতা আর বৃদ্ধ হয়ে ওঠা চোখ দুটো, বিরু-বাসন্তীর হাব-ভাব দেখে এমনটা অনুমান লাগিয়ে নিল যে.... এই মুহূর্তে সেখানকার পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়।বিরু বাসন্তীও নিজেদের মধ্যে কোন কথা-বার্তা বলছিল না।তবুও সবকিছুকে অপেক্ষা করে মাসিকে বললেন....বাবা বিরু! বিয়ের পরে জীবনে যেমন কিছু সমস্যা আসে...তার সাথে-সাথে কিছু লাভও হয়। বিরু অবাক হয়ে উঠে প্রশ্ন করল!বিয়ে করে কি লাভ হতে পারে....?মাসি বললেন প্রথম হচ্ছে এটা যে.... যদি ভাল স্ত্রী পাওয়া যায়....তাহলে জীবন সুখে ভরে উঠে আর, স্ত্রী যদি বাসন্তীর মত একটু বুদ্ধুর মত হয় সে নিজের স্বামীকে পন্ডিতের থেকেও বেশি জ্ঞানী বানিয়ে দেয়। বিরু মাসি কে বলল....আপনি আমাকে তো প্রতিবারই কিছু না কিছু বোঝাতে থাকেন,কখনো বাসন্তীকেউ কিছু বোঝান।
**** মাসি বললেন আমি কেবল বাসন্তী কি নয়.... নিজের আপন সব লোকেদের ই এটা বলি যে... দাম্পত্য সম্পর্কে একটু আধটু খিটখিট হতেই থাকে। কখনো একজন কিছু বলে বসল...তো অন্যজনের কোন একটা ব্যাপারে খারাপ লাগলো।এমনিতেই প্রতিটি ব্যক্তির কারো না কারো কাছে "আমি" আর সামনের ব্যক্তি "তুমি"হয়।এই "আমি-তুমি" সম্পর্ক ঠিক গাড়ির দুটি চাকার মত হয়।যদি এই দুই চাকা একে-অপরের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখে ঠিকঠাক ভাবে চলতে থাকে..... তাহলে জীবনের সফর সহজেই কেটে যায়। আর যে কোন গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হয়ে ওঠে।কিন্তু যখন দুটো চাকার মধ্যে কোন একটা চাকা, ঠিকমতো নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারে না। সে পরিস্থিতিতে এক পা-ও সামনে এগোনো অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে।
***** "আমি তুমি"র জুটি, স্বামী-স্ত্রী হতে পারে,পিতা-পুত্রের হতে পারে,বা একসাথে কাজ করতে থাকা দুই সহকর্মীর ও হতে পারে।এই সম্পর্কে একদিকে যেমন ভালবাসা থাকে... অন্যদিকে কিছু মত পার্থক্য থাকে। যে ব্যক্তি এই "আমি তুমি" গুরুত্ব জানেন।তিনি মতপার্থক্য গড়ে ওঠার আগেই প্রেম আর বিশ্বাসের বন্ধন কে মজবুত করে তোলেন।এই সম্পর্ক পালন করার সময় আমাদের একটা কথা সর্বদাই মাথায় রাখা উচিত যে....কোন ব্যক্তি কখনোই সকল কাজে নিপুন হতে পারে না।এইজন্য যখন "আমি-তুমি"র সম্পর্ক গড়ে উঠবে।তখনই আমাদের সামনের ব্যক্তিকে তার সকল দুর্বলতা স্বীকার করে মেনে নেওয়া উচিত। আর যদি ব্যক্তি এমনটা করার বদলে.... অন্যদের বদলানোর চিন্তা নিজের মনের মধ্যে পালন করে ।তাহলে তার সেই চিন্তা ধারা "আমি- তুমি" সম্পর্কে ঝামেলা শুরু হয়ে,শীঘ্রহী দাবানল হয়ে ওঠে,সম্পর্ককে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়।
****** একদিকে যেমন "আমি-তুমি"র সম্পর্ক একে-অপরের প্রতি,প্রেম-ভালোবাসা,বিশ্বাস আর সম্মানের ভাব তুলে ধরে।অন্যদিকে এটা সকল সীমা পার করে একসাথে বাঁচা-মরার এক অদ্ভুত উদাহরণও কায়েম করে ।যখনই কেউ সত্যিকারে হৃদয়ে "আমি-তুমি" সম্পর্ক গড়ে তুলেছে,সেসব লোকের এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। এর সাথে-সাথে এটাও লক্ষ্য করা অত্যন্ত জরুরি যে....যখনি "আমি-তুমি" সম্পর্কে কোনো প্রকার সন্দেহ জন্ম নিতে লাগে....তখনই দুনিয়ার লোকেরা মনোমালিন্যের প্রাচীর গড়ে তুলতে এতোটুকু দ্বিধা করে না।কিন্তু এই সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস কায়েম রাখতে পারলে... এমন প্রচেষ্টা করতে থাকা লোকেদের সর্বদাই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় ।যে পরিবারে "আমি-তুমি" সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ আবশ্যকতার থেকে বেশি বেড়ে ওঠে.... সেখানে খুশির জায়গার অপূর্ণতার বিস্তার হতে থাকে।"আমি-তুমি"র থেকে কোন একজনের সঙ্গ হারিয়ে যেতেই... আমাদের সকল শক্তি দুর্বলতায় রূপান্তরিত হয়ে পড়তে লাগে।
******* মাসির সব কথা শোনার পরে ভীরু ওনাকে বললো....মাসি! এতটা তো আমিও জানি যে... আমরা যদি নিজেদের জীবনকে খুশিতে ভরিয়ে তুলতে চাই। তাহলে ...এটা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত জরুরী হয় যে... আমরা পরিস্থিতি আর আবশ্যকতা অনুসারে সময়ে-সময়ে নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসব ।পরিস্থিতি আমাদের অনুকূল না হলে ...সেটার সাথে সংঘর্ষে না গিয়ে... আমাদের পরিস্থিতির সাথে, সামঞ্জস্য বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত ।এইসব জিনিস জানার জন্য হয়তো আমি এটা জানতে পেরেছি যে... আমাদের এই জীবন অত্যন্ত ছোট! আমাদের সকল দুঃখ ভুলে গিয়ে হাসিমুখে জীবন কাটানো উচিত।
******** মাসির মুখে এত শিক্ষাপ্রদ কথা শুনে তো নিজের মনে এমনটা স্থীর করে নিয়েছি যে... আজ থেকে ওনার কোন কাছের লোক উনার উপরে রাগ করলে... উনি তৎক্ষণাৎ ওনার সেই রাগ দূর করে দেবেন। কারণ... অহংকার আর জেদের কারণে, প্রায়ই দূরত্বের সৃষ্টি হয়ে পড়ে। যখন কি "আমি-তুমি"র মধ্যে কার, ভেদ-ভাব মিটিয়ে ফেলতে পারলে আমাদের জীবনের বাগানে কেবল প্রেমে ফুটবে।
দুটি "কড়া"শব্দ উচ্চারণ করলে...যেমন দূরত্ব বেড়ে ওঠে।
তেমনি
একটু "মুখের হাসি" দিয়ে দূরত্ব মিটিয়ে নেয়াও যেতে পারে।




No comments:
Post a Comment